শেখ আরিফুজ্জামান রাজু :
পৃথিবীতে খুব অল্প সংখ্যক মানুষই আছেন যারা সময়ের সাথে সাথে ভালো মন্দ বিচার করে ভালোর সাথে নিজের আলোমাখা জীবনকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। মাস্টার ফেরাজতুল্ল্যাহ বিশ্বাস তাদেরই অন্যতম একজন।নিজের অন্ধকারচ্ছ জীবনকে কাটিয়ে উঠে সমাজকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে জীবনের প্রতিটি ধাপকে উৎসর্গ করেছেন।মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে না থাকলেও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক হিসেবে যার খ্যাতি আজও মানুষের মুখে মুখে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে রিলিফ চেয়ারম্যান হিসেবে যার অবদান সর্বসাধারণের কাছে ছিল উজ্জ্বল।
একটি সার্টিফিকেট মানেই নতুন একটি অভিজ্ঞতা। একটি অভিজ্ঞতার শেষ করেই সেই আলোকে শিক্ষার্থীদের নবচেতনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন। সবে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষা শেষ করেই জ্ঞান বিতরণের প্রতি হয়ে ওঠেন আত্মমগ্ন। শ্যামনগর, পাতাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু করেন জ্ঞান বিতরণের ধারাবাহিকতা। এন্ট্রান্স পাশ করে কিষাণ মজদুর ইউনাইটেড একাডেমি হাইস্কুলে সহকারি শিক্ষককের মর্যাদা পেয়ে যান।আজ সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তার ২৪তম মৃত্যুবার্ষিক। 'মাস্টার ফেরাজতুল্ল্যাহ বিশ্বাসের অবদান ভুলে যাওয়ার নয়' শীর্ষক মিলাদ-মাহফিল ও আলোচনা সভায় আলোচনা পেশ করেন থানা জামে মসজিদের খতিব হজরত মাওলানা আশরাফুল ইসলাম আজিজী। আজিজী দা. বা. বলেন সব আমল চলে যায়, তবে তিনটি আমল দুনিয়ার বুকে ছাওয়াবের অংশীদার হিসেবে কাজ করে যার একটি নেক সন্তান। আসুন সবাই নেক সন্তান তৈরি করি।
আলোচনা সভায় অংশ নেন কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সাহিত্য গবেষক গাজী আজিজুর রহমান। তিনি বলেন- ভালো কাজ কখনো বৃথা যায় না। আমরা মরেও আমার হতে পারি ভালো কাজের মধ্য দিয়ে। স্রষ্টা এবং নবীর দেখানো পথে চলার মাধ্যমে এ রঙিন দুনিয়ায় আমরা মানুষের অন্তরে রঙিন হয়ে থাকতে পারি। আসন ভালো কাজ করে দেশ ও দশের উন্নয়ন করি যেমনটা করেছিলেন মাস্টার সাহেব।এডভোকেট জাফরুল্লাহ ইব্রাহিম বলেন- তার মত এমন দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিচক্ষণ সমাজকর্মী খুব কমই ছিল। তিনি ছিলেন ভালো কাজের অন্যতম সংগঠক। প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাস বাচ্চু, হাফিজুর রহমান শিমুলসহ সর্বশ্রেণীর মানুষ অংশ নেন মিলাদ ও আলোচনা সভার এ বিশেষ আয়োজনে।
আলোচনার মুখ্য বিষয় হয়ে ওঠে বাবার জ্ঞানউৎসুক জীবনের ধারাবাহিকতা পেয়েছেন রেখে যাওয়ার উজ্জ্বল সন্তানদের মাঝে। সমাজ উন্নয়ন কর্মকান্ডে মোস্তফা নুরুজ্জামান ও মোস্তফা আক্তারুজ্জামান পল্টুর সুশীলনভিত্তিক আত্মসামাজিক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মশালা বাবার স্মৃতি স্বাক্ষর বহন করে।বাবার মৃত্যু বার্ষিকীতে ছেলে মোস্তফা কবিরুজ্জামান ও মোস্তফা আক্তারুজ্জামান অশ্রুসিক্ত নয়নে স্মৃতিচারণ করেন আবেগঘন না-ফেরা দিনগুলোর কথা। সেজে চাচা আবু হেনা বিশ্বাস, মাস্টার আমিরুল ইসলাম, ভগ্নিপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম (মাসুম) মাস্টার সাহেবের ভালো কাজের পরিচিতি তুলে ধরে সকলের কাছে দোয়া ও মাগফিরাত কামনা করেন।
সাতক্ষীরা কলেজের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিএ পাস করে ১৯৬৭ সালে কিষাণ মজদুর হাইস্কুলে শিক্ষাই সম্পূর্ণরূপে আত্মনিয়োগ করার বাসনা নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ইংরেজির জবরদস্ত শিক্ষক হিসেবে শুনাম অর্জন করেন। তার নামের সাথে আজও মাস্টার শব্দটি সেই গৌরবজ্জ্বল দিনগুলোর কথা মনে করে দেয়। ২০০১ সালে রিটায়ার্ডের কিছুকাল পূর্বে ৬৩ বছর বয়সে শনিবার সন্ধ্যে বাতির আবছা আলোয় সেপ্টেম্বরের আজকের দিনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন করেন জ্ঞানপিপাসু এই মানুষটি। তার সহধর্মিনী বেগম নুরজাহান দুঃখ ভারাক্রান্ত জীবন কাটিয়ে উঠে ২০১০ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী ৬২ বছর বয়সে স্বামীর মৃত্যু দিন শনিবারে তিনিও পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
আলোচনা সভায় আহসনিয়া মিশনের কালীগঞ্জ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নূর হোসেন বলেন বাবার দেখানো পথে সন্তানেরা এখন হচ্ছে এটা সত্যিই আমাদের জন্য শিক্ষনীয় বিষয়।জ্ঞান সাধনায় নিভৃত এ মানুষটি ছিলেন মানবহিতৈষী। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের তার অবদান আজও দৃষ্টিগোচার।মিলাদ, কিয়াম, দোয়া ও মধ্যাহ্ন ভোজের বিশেষ আপ্যায়নের মাধ্যমে আলোচনা সভার সমাপ্তি হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শেখ আরিফুজ্জামান রাজু
জিমেইল/ নিউজ/CV: dailykakshiyali@gmail.com
ঠিকানা: কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা ,মোবাইল : 01637-734684