
শেখ আরিফুজ্জামান রাজু: তথ্য সংগ্রহ-ফরিদুল কবির
কালিগঞ্জের মথুরেশপুর ইউনিয়ন হারালো তার সর্বাধিক প্রবীণ, শ্রদ্ধেয় ও আলোকিত এক মানবসম্পদ। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সাবেক নিকাহ রেজিস্টার মাহবুব আলম আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাদ যোহর জানাজা শেষে খাজাবাড়িয়া জামে মসজিদের পাশে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।
মরহুম মাহবুব আলম মথুরেশপুর ইউনিয়নের খাজাবাড়িয়া গ্রামের মরহুম ছকিম উদ্দিন গাইনের পুত্র। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে দ্রুত সাতক্ষীরা সিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
বৃহস্পতিবার বাদ যোহর উজয়মারী কেন্দ্রীয় মডেল ঈদগাহ ময়দানে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে খাজাবাড়িয়া জামে মসজিদের পাশে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৫ পুত্র, ৪ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
একাধারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সমাজ সংস্কারক, নিকাহ রেজিস্টার, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং তরুণ সমাজের নৈতিক আলোকবর্তিকা—মাহবুব আলম ছিলেন সত্যিকার অর্থেই একটি চলমান শিক্ষালয়। তাঁর সুবচন, মিষ্ট ব্যবহার, শালীনতা ও আদব-আখলাক ছিল পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক অনন্য দিকনির্দেশনা। বক্তৃতায় তিনি জীবনদর্শনের গভীরতা ও ইসলামি চেতনার সমন্বয়ে সমাজ গঠনের বার্তা ছড়িয়ে দিতেন নিরলসভাবে।
এই জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান মানুষটির বিদায় যেন উজয়মারী ও খাজাবাড়িয়ার মানুষের হৃদয়ে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। তাঁর জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। যাদের মধ্যে মোহাদ্দিস রবিউল বাশার মর্মস্পর্শী বক্তৃতা প্রদান করেন। মরক্কো থেকেও একজন শুভাকাঙ্ক্ষীও জানাজায় অংশ নেন।
কালিগঞ্জের এই জ্ঞানবৃক্ষের প্রস্থান শুধু একটি মৃত্যুই নয়— এ যেন সমাজ থেকে এক আলোকস্তম্ভের নিভে যাওয়া।
Leave a Reply