
শিমুল হোসেন,কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা ব্যুরো
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের ছনকা গ্রামে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি দখলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪, ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় মামলা এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হলেও অভিযোগ উঠেছে-বিবাদীপক্ষ কোনো বাধা-নিষেধ মানছেন না এবং নালিশী জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। অভিযোগকারী মথুরেশপুর ইউনিয়নের ছনকা গ্রামের মৃত: শেখ মোকছেদ আলী ছেলে এস.এম. আলম সিদ্দীকী জানান,ছনকা মৌজায় অবস্থিত এসএ ও বিআরএস রেকর্ডভুক্ত প্রায় ৭০ শতক জমি তিনি ও তার সহ-ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে ফলদ ও বনজ গাছ রোপণসহ নিয়মিত চাষাবাদ চলমান ছিল।তিনি আদালতে দাখিল করা পিটিশনে উল্লেখ করেন, একই গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে মনিরুল ইসলাম , মৃত আব্দুল ওদুদ এর ছেলে রবিউল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, মাহাবুবর রহমান, মোকলেছুর রহমান, সাইফুল ইসলাম সহ অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি, গত (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখল নেন। এ সময় জমির মাটি কেটে গর্ত করা, পাকা ঘর ও প্রাচীর নির্মাণ এবং গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ তোলা হয়। বাধা দিলে তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।এ ঘটনায় তিনি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সাতক্ষীরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪, ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় পিটিশন মামলা (নং-০৭/২৬, কালিগঞ্জ) দায়ের করেন। পাশাপাশি গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও খুন-জখমের হুমকি পাওয়ার অভিযোগে কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯৯৩, তারিখে ২০/০১/২০২৬) করেন।অভিযোগকারীর দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা থাকলেও বিবাদীপক্ষ তা উপেক্ষা করে নালিশী জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমিটি ঘিরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন বলেন,জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে।অন্যদিকে অভিযুক্তদের একজন রবিউল ইসলাম দাবি করেন, আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং কোর্টের নোটিশ পাওয়ার পর তারা কাজ বন্ধ রেখেছেন। তবে অভিযোগকারী পক্ষ বলছে, বাস্তবে আদালতের নির্দেশনা ‘বুড়ো আঙুল দেখিয়ে’ নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে।উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আগেই কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a Reply