
শিমুল হোসেন কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা ব্যুরো
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামে প্রায় ১৭ বছর ধরে একটি সরকারি খাস খালের পানি চলাচলের গেট বন্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকাবাসী।এ ঘটনায় পশ্চিম নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা জবেদ আলী সরদারের ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন এলাকাবাসীর পক্ষে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভাড়াশিমলা ও নারায়ণপুর মৌজার একটি সরকারি খাস খাল দিয়ে এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসন হয়ে আসছিল। কিন্তু প্রায় ১৭ বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের পানি চলাচলের গেট বন্ধ করে জবরদখল করে নেন। পরে তারা নিজেদের সুবিধামতো পানি উত্তোলন ও বন্ধ করে রাখার কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম নারায়ণপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিবন্দী হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।লিখিত অভিযোগে বিবাদী হিসেবে ভাড়াশিমলা গ্রামের শেখ নূর আহম্মদের ছেলে শেখ জামিরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম, মৃত শেখ শাহাজানের ছেলে শেখ খায়রুল ইসলাম, শেখ মনিরুল ইসলামের ছেলে রানা এবং সাবিরুল ইসলামের ছেলে শেখ রকিবুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ-২০২৬) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খালের পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় বর্ষা মৌসুমে পশ্চিম নারায়ণপুরসহ আশপাশের এলাকা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে থাকে।
এ সময় ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের মৃত মাহমুদ সরদারের ছেলে মহসিন আলী, জবেদ আলী সরদারের ছেলে জয়নাল আবেদীন, জাকির হোসেন, হাফিজুর রহমান, খান মাহবুবুর রহমান হাসু, ইউসুফ রাব্বি এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন গ্রামবাসী সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বহুবার প্রতিবাদ ও উদ্যোগ নিলেও প্রভাবশালীদের কারণে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।গ্রামবাসীরা আরও জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে খালটি মাপজরিপ করে উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানছেন না এবং জবরদখল বজায় রেখেছেন।ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালটি উন্মুক্ত করার চেষ্টা করলে তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাস খালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply