
শিমুল হোসেন,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের পল্লীতে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। আহত উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত: মোবারক আলী মোল্লার ছেলে মোঃ হারুন অর রশিদ বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।এজাহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে একই গ্রামে জাফর ফারুক মোল্লার স্ত্রী মোছাঃ মরিয়ম খাতুন,মৃত বেলাত আলী মোল্লার ছেলে জাফর ফারুক মোল্লা। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১/২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করে আসছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান,তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। জীবিকার প্রয়োজনে যাত্রী পরিবহনের সময় কিছু ব্যক্তিকে অভিযুক্তদের বাড়িতে নেওয়া- আসা নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে তিনি এ ধরনের যাত্রী পরিবহন করতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা ধরনের হুমকি- ধামকি দিতে থাকে।অভিযোগে আরও বলা হয়, গত (১৮ মার্চ ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে পাকা সড়কে অবস্থানকালে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোহার রড ও ছুরি নিয়ে তার পথরোধ করে। এ সময় তারা গালিগালাজ করতে থাকে এবং প্রতিবাদ করলে মরিয়ম খাতুন লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে।
পরে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা ৩ হাজার ৫০০ টাকা পড়ে গেলে তা জাফর ফারুক মোল্লা নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় ছুরি ধরার চেষ্টা করা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের ওপরও হামলা চালায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় হারুন অর রশিদকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, “অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply