
শিমুল হোসেন, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) ব্যুরো :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। ধারালো দা, রামদা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১১ টায় সরেজমিনে ও এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নলতা ইউনিয়নের পূর্ব নলতা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ছামছুদ্দীন গাজী বাদী হয়ে গত ২৫ জানুয়ারি কালিগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং–১৯)। মামলায় উল্লেখ করা হয়, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল। মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন-পূর্ব নলতা গ্রামের আমজাদ হোসেন মোল্লার পুত্র আরেফিন সিদ্দীক ওরফে রিয়াদ, আমজাদ হোসেন মোল্লা, শাহাদাত মোল্লা ওরফে সাজু, রেজাউল মোল্লা ওরফে নেজু, আবুল হোসেন, আজগার হোসেন মোল্লার পুত্র আলফাজ হোসেন, মোছাঃ করিয়া বেগম, মোছাঃ চায়না বেগম, মোছাঃ শাকিলা বেগম ও মোছাঃ হালিমা বেগম।ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে ১নং আসামির বসতবাড়ির সামনে বাদীপক্ষের লোকজনের পথরোধ করে। এ সময় প্রতিবাদ করলে মনিরুদ্দীন গাজীকে গেটের ভেতরে নিয়ে গিয়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। পরে ছেলে মাসুম বিল্লাহ পিতাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে গেট বন্ধ করে তার মাথায় ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
এছাড়া মনিরুদ্দীন গাজী ও আব্দুল মজিদ গাজীকে রামদা ও লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। হামলায় আব্দুল মজিদ গাজী মাথায় রামদার কোপে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তক্ষরণ ও বমি করলে তাকে প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর আহত মনিরুদ্দীন গাজী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং মাসুম বিল্লাহসহ আরও একজন কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় আহতদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।সংঘর্ষের খবর পেয়ে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন,“ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে এবং জমি দখলসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply