
শিমুল হোসেন,কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা ব্যুরো :
প্রবাসে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে ওমানের ভিসা দেওয়ার প্রলোভনে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। থানাসূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের কলিযোগা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নূর ইসলাম মোড়ল (৭৩) গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কালীগঞ্জ থানায় হাজির হয়ে দায়ের করেন। জিডি নম্বর-১২৪০।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, নূর ইসলাম মোড়লের পুত্র মোঃ নজরুল ইসলাম (৪৬) একজন ওমান প্রবাসী।প্রবাসে অবস্থান কালে নজরুল ইসলামের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার এলাকার মোঃ তাজুল ইসলাম (৪০) ও মোঃ মাহমুদ (৪৫)-এর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা ওমানের ভিসা প্রদান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিকাশ ও ওমানের একাধিক ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও অভিযুক্তরা ভিসা প্রদান তো করেইনি, বরং পাওনা টাকা ফেরত দিতেও টালবাহানা শুরু করে।যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা অধিকাংশ সময় ফোন বন্ধ রাখে এবং কখনো ফোন রিসিভ করে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এছাড়া প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে অভিযুক্তরা ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের একটি রশিদ প্রদান করলেও পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে সেটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
সর্বশেষ গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমু অ্যাপের মাধ্যমে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা সরাসরি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং হুমকি দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং ভবিষ্যৎ আইনগত সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি কালীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করা হয়। ডায়েরিতে অভিযুক্ত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর আবেদন জানানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কঠোর বক্তব্য ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ভুয়া ভিসা ও বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা এখন নীরব সামাজিক মহামারিতে রূপ নিয়েছে। সহজ-সরল মানুষ ও প্রবাসগামী শ্রমজীবী পরিবারের স্বপ্নকে পুঁজি করে একের পর এক প্রতারক চক্র সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। এসব প্রতারণা কেবল আর্থিক ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, সম্মান ও মানসিক স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে—এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতারক চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে প্রবাসে কর্মসংস্থানের নামে চলমান প্রতারণা বন্ধে সার্বিক নজরদারি জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজ প্রতারকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস পাবে-এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জুয়েল হাসান জানান প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে জিডি হয়েছ।তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
Leave a Reply