
।। সুকুমার দাশ বাচ্চু।। কালিগঞ্জ সাতক্ষীরা :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠে উৎসব । বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নিজস্ব প্রতীক নিয়ে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ব্যতিক্রম নয় সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ ও আশাশুনি) সংসদীয় আসন। এই আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন , বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন কাজী আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মুহা; রবিউল বাশার, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে ডা; শহিদুল আলম,জাতীয় পার্টি মনোনীত নাঙ্গল এর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলিফ, ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখার মনোনীত প্রার্থী কাজী ওয়াজ কুরুনী,ও মাইনোরিটি পার্টির মনোনীত প্রার্থী রুবেল নির্বাচনী মাঠে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ভোটারদের মতে মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি তিনজন প্রার্থীর মধ্যে ।
স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাসার এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. শহিদুল আলম—এই তিনজনের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
কাজী আলাউদ্দিন ও ডা. শহিদুল আলম—দু’জনেরই বাড়ি কালিগঞ্জ উপজেলায়। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাসারের বাড়ি দেবহাটা উপজেলায়। কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। বিপরীতে দেবহাটা উপজেলা সাতক্ষীরা সদর আসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সেখানে ভোটের হিসাব ভিন্ন রকম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি কালিগঞ্জ উপজেলার ভোটাররা আঞ্চলিকতার টানে একত্রিত হতেন, তবে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিনের জয় অনেকটাই সহজ হতে পারত। কিন্তু একই উপজেলার প্রার্থী হিসেবে ডা. শহিদুল আলম নির্বাচনে থাকায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা কাজী আলাউদ্দিনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির রাজনীতির দুর্দিনে কাজী আলাউদ্দিন সবসময় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন। উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়ে দলীয় কর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রায় অর্ধলক্ষ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এসব কারণে অনেক ভোটারই আশা করছেন, এবারও তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন।
অন্যদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মো. শহিদুল আলম একজন ক্লিম ইমেজের নেতা দলের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের মামলা-মোকদ্দমায় জামিন করানো থেকে শুরু করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাঁর দাবি, বিএনপির তৃণমূলের বড় একটি অংশ তাঁর পক্ষেই ভোট দেবে এছাড়া ব্যক্তিগত সমর্থক মাইনরিটিরাও তাকে ভোট দিলে জয়লাভ করবে ।
এদিকে ভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাসার। তিনি ও তাঁর সমর্থকরা, বিশেষ করে দলীয় নারী কর্মীদের সমন্বয়ে দায়িত্ব ভাগ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। মাঠ পর্যায়ে জামায়াত ইসলামী দল সুসংগঠিত এই দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। জামায়াত যোগ্য প্রার্থীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিয়ে রেখেছে তিনি জয়লাভ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসনে এবারের নির্বাচন যে জমজমাট ও উত্তেজনাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। চায়ের দোকান মুদি দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের সর্বস্তরে জল্পনা কল্পনা চলছে আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি হা, না গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা ৩ আসনে কে জয় লাভ করবে, কোন দল সরকার গঠন করবে বিএনপি, নাকি জামায়াত?সেই অপেক্ষায় সর্বত্র রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা ছাড়াও সাধারণ জনগণের মধ্যে জল্পনা কল্পনা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু , শেষ মুহূর্তে প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা গণসংযোগ ও জনসভায় ব্যস্ত। আগামী নির্বাচনে কে হচ্ছে এমপি ।
Leave a Reply