1. dainikamaderkhobor@gmail.com : dainikamaderkhobor :
  2. newsarifuzzaman@gmail.com : newsarifuzzaman@gmail.com :
অপসাংবাদিকতার দৌরাত্ম্যে বিপন্ন পেশাদার সাংবাদিকতা - দৈনিক কাকশিয়ালী
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ-
কালিগঞ্জে জমি বিরোধের জেরে গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশী আহত বড়শিমলা কারবালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাফল্য ও গৌরবের ৫৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে ৯ সু-সন্তানকে পুরস্কার প্রদান, ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলায় মুখর বন্দকাটি কালিগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা আত্মসাত” বসতভিটা দখলের চেষ্টা’থানায় লিখিত অভিযোগ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম জয়ন্তী পালন  ডা : আকছেদুর রহমান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন  কালিগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগ,প্রাণনাশের হুমকির দাবি ১০০ মিটার দৌড়ে খুলনা বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন কালীগঞ্জের জাকির কালিগঞ্জে তরুণী অপহরণের চেষ্টাকালে কথিত ‘অজ্ঞান পার্টির’ দুই সদস্য আটক, প্রাইভেটকার জব্দ

অপসাংবাদিকতার দৌরাত্ম্যে বিপন্ন পেশাদার সাংবাদিকতা

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

আওরঙ্গজেব কামাল :

সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণতন্ত্রের এক অনিবার্য শক্তি। সাংবাদিকতা থাকলেই গণতন্ত্র উজ্জীবিত থাকে। সাংবাদিকতা হারিয়ে গেলে গণতন্ত্র একনায়কতন্ত্রে পরিণত হয় । যে কারণে সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা হিসেবে স্থায়ী হিসাবেের উপায়। অথচ এ মহান পেশায় আজ অনুপ্রবেশ ঘটেছে অপেশাদার, ভুয়া ও কথিত ‘ফেসবুক সাংবাদিকদের’।

কিছু রাজনৈতিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ইন্ধনে এরা প্রকৃত সাংবাদিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অপমান করছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও ঘটছে। একসময় সাংবাদিকতা ছিল সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে প্রতিবাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছিল নির্ভীক কলমের অঙ্গীকার। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এই পেশাটি অনেকাংশেই কলুষিত হয়েছে ইউটিউবারধর্মী সাংবাদিকতা ও সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর মিথ্যাচারের মাধ্যমে। ফলে পেশাদার সাংবাদিকরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। সাংবাদিকদের হাত ধরেই সৃষ্টি হয় সংবাদপত্র—যা সমাজের দর্পণ ও রাষ্ট্রের পথপ্রদর্শক। অথচ বর্তমানে সাংবাদিকতা অঙ্গন দ্বিধাবিভক্ত। ভুয়া ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্যে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

অপরাধীদের অনুপ্রবেশ এ সংকটের অন্যতম কারণ। এখন এমনও দেখা যাচ্ছে—চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরাও রাতারাতি নিজেদের ‘রিপোর্টার’ পরিচয় দিচ্ছে, এমনকি থানায় ঢুকে পড়ছে সাংবাদিকের প্রভাব দেখিয়ে। অনেক মিডিয়া মালিক এসব জানেন তবু নীরব থাকেন, কারণ তাঁরাও কখনো কখনো এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত। অপরদিকে প্রকৃত সাংবাদিকদের চাকরি, সম্মান ও উপযুক্ত বেতন—সবই ঝুঁকির মুখে। ভুয়া সাংবাদিকদের জন্য তাঁদের প্রতিনিয়ত জবাবদিহি করতে হচ্ছে অযথা সন্দেহের। আজকের বাস্তবতায় সাংবাদিকতা অনেক ক্ষেত্রে পেশা নয়, লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

অশিক্ষিত ও কুশিক্ষিত একটি চক্র নামসর্বস্ব অনলাইন বা আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার তথাকথিত প্রেস কার্ড নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে ও প্রতারণা করছে। তাদের ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা।

অভিযোগ আছে—এই ভুয়া সাংবাদিকদের একটি অংশ প্রকৃত সাংবাদিকদের লেখা প্রতিবেদন কপি করে নিজেদের নামে অনলাইনে প্রকাশ করছে, আবার মোবাইলে ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে। কেউ কেউ ‘প্রেস’ লিখিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও চালাচ্ছে। সংগঠিত হয়ে গ্যাং তৈরি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনাও বাড়ছে।

এতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এসব অপকর্মে সোশ্যাল মিডিয়াও বড় ভূমিকায়। বিশেষ করে ‘সৈরাচারমুক্ত সুবিদাবাদ বিরোধী এক্সপ্রেস’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, ছবি ব্যবহার করে হয়রানি ও চাঁদা দাবি করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। যারা প্রকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছেন বা সরকারবিরোধী দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানে ছিলেন, তাঁদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

এভাবে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে পেশাদারদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে সত্য প্রকাশের দায়ে বহু সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন। বর্তমানে সাহসী সাংবাদিকতা চর্চা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। পদে পদে বাধা, মামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং মানহানির ভয়ে অনেকে পিছু হটছেন। অভিজ্ঞজনদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ হলো—

প্রকৃত সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব দেখা দেওয়া। শক্ত কোনো নীতিমালা না থাকা । রাজনৈতিক অপব্যবহার চরম মাত্রায় পৌঁছে যাওয়া।

মিডিয়া মালিকদের দায়হীনতা বাণিজ্যিক মানসিকতা। সোশ্যাল মিডিয়ার অপপ্রচার বা তথ্য সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ায় সরকারের নিরবতা। আমার মতে,এই সংকট নিরসনে অতি দ্রুত প্রয়োজন—

প্রথমত ভুয়া ভুয়া ফেসবুক আইডি, ভুয়া সাংবাদিকদের সনাক্তকরণ ও আইনি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করা। জাতীয় পর্যায়ে কঠোর গণমাধ্যম নীতিমালা বাস্তবায়ন করা। প্রকৃত সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ সরকারের ভূমিকা রাখা। মিডিয়া বা পত্রিকা মালিকদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা। পেশাদার সাংবাদিকদের ঐক্য ও সংগঠিত প্রতিরোধ তৈরি করা। তাহলে হয়তো

সাংবাদিকতা আবার সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে—এই প্রত্যাশাই এখন সময়ের দাবি।

লেখক ও গবেষক: আওরঙ্গজেব কামাল

সভাপতি, ঢাকা প্রেসক্লাব

পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরও নিউজ
© www.dailykakshiyali.com
Theme Customized By Diggil Agency