
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই বাল্যবিবাহটি বন্ধ করেন নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল ইসলাম খাঁন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম সরদারের কন্যা হুমাইরা আঞ্জু মনিরা (১৭)-এর সঙ্গে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ব্রজকাটি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ আল রাফি (১৯)-এর বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাইনুল ইসলাম খাঁন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশসহ অভিযান পরিচালনা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাল্যবিবাহটি বন্ধ করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৯ ধারায় উভয় পরিবারের অভিভাবকদের ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। একই সঙ্গে মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ না করার কঠোর নির্দেশ দেন। উভয় পক্ষের অভিভাবক ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করার মুচলেকা দেন।
অভিযানকালে উপস্থিত স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা প্রশাসনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন—
“মাইনুল ইসলাম খাঁনের মতো সাহসী ও মানবিক কর্মকর্তারাই সমাজে পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর উদ্যোগে এখন অনেক পরিবার সচেতন হচ্ছে।”
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল ইসলাম খাঁন বলেন,
“বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি আমরা সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাই। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
প্রশাসনের এই দৃঢ় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও প্রশংসার জোয়ার ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন—
“এটি শুধু একটি বাল্যবিবাহ রোধ নয়, বরং মানবিক ও নৈতিক সমাজ গঠনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”
Leave a Reply