
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
স্বাস্থ্যসেবার মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে এবং রোগীর আস্থা রক্ষা করতে কালিগঞ্জে অনুষ্ঠিত হলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের তীব্র অভিযান। হযরত আলী ডিজিটাল ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে আদালত ১ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাসপাতালটি অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বুলবুল কবীরসহ পুলিশ ফোর্স। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজা মণ্ডল ভোক্তা অধিকার আইনের আওতায় কঠোর রায় দেন।
ভুক্তভোগী মোঃ ফজলুর রহমান জানান, অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় গ্রাম ডাক্তার আবু মুসার পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর থাকলেও তথ্য ছিল অদ্ভুত ও অসম্ভব — একজন পুরুষ রোগীর রিপোর্টে ‘জরায়ু সমস্যা’ লেখা ছিল। পরে অন্যান্য চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নিশ্চিত হন, রিপোর্টটি জাল, এবং স্বাক্ষরও ভুয়া।
ফজলুর রহমান জানান, “ভুয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা নেওয়ার ফলে আমার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।” এই অভিযোগের পর প্রশাসন সরব হয়ে হাসপাতালে অভিযান চালায়।
ঘটনাটি শুধু এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেনি, বরং স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের আহ্বানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। প্রশাসনের কঠোর রায় একবারের জন্যই সকলকে সতর্কবার্তা দিয়েছে—রোগীর আস্থা নিয়ে খেলা করা যাবে না।
Leave a Reply