
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে পরকীয়াজনিত পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে চাচাকে মারধরের অভিযোগে সেনা সদস্য তৌফিক হাসান লিমনের নামে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী দিনমজুর আশরাফ উদ্দিন আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামে আশরাফ উদ্দিনকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে,ঘটনার পর সেনা সদস্য তৌফিক হাসান প্রভাব খাটিয়ে পাওখালি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সেনা ক্যাম্পে উল্টো অভিযোগ দেন। পরে সেখানে আশরাফ উদ্দিনকে ডেকে নিয়ে পুনরায় মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক মুচলেকা আদায় করে রাত ১০টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে ডজনের বেশি গ্রামবাসী সেনা ক্যাম্পে গিয়ে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে গেলে ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। এরপর থানায় অভিযোগ দিলেও তা নথিভুক্ত হয়নি বলে ভুক্তভোগীর দাবি।
থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করায় আশরফ উদ্দিন উপায়ান্তর না পেয়ে গত ২৭ অক্টোবর সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে সেনা সদস্য তৌফিক হাসান লিমন, তার পিতা জহুর আলি, মা সালমা পারভীন ও বোন ইভা পারভীনকে আসামি করে সিআরপি ৬৯৭/২৫ (কালি:) নম্বরে মামলা করেন। আদালত মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওসি কালিগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিবার ও পরকীয়া সংঘাতের পটভূমি (অভিযোগসূত্রে জানা) মামলার তথ্য ও স্থানীয় সূত্র জানায় আশরাফ উদ্দিনের স্ত্রী সাজিদা বেগম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে সেনা সদস্য তৌফিক হাসানের মামা মালয়েশিয়া প্রবাসী। এই যোগাযোগের সূত্রে আশরাফের স্ত্রী ও ওই মামার মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দু’জন দেশে ফিরে গোপনে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে আশরাফ আদালতে স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর কিছুদিন পর স্ত্রী তালাক পাঠান।
আশরাফকে মারধরের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ৩০ অক্টোবর ছুটিতে বাড়ি এসে সেনা সদস্য তৌফিক হাসান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চাচা আশরাফকে মারধর করেন। এরপর থানায় জিডি করে আবার সেনা ক্যাম্পে গিয়ে আশরাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তাকে ক্যাম্পে ডেকে নিয়ে পুনরায় মারধর ও জোর করে মুচলেকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত পরিবারের বক্তব্য সেনা সদস্য তৌফিক হাসানের বাবা জহুর আলি পূর্বের বিরোধের কথা স্বীকার করলেও মারধরের ঘটনায় তার ছেলে জড়িত নন বলে দাবি করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে এখনই কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
Leave a Reply