
সম্পাদকীয় কলাম :
মুক্তিযুদ্ধের পর পঞ্চাশ বছর কেটে গেলেও কালীগঞ্জে অবকাঠামতে ছোঁয়া পরেনি আধুনিকতার। খোদ উপজেলার ভবনগুলোতে আসেনি দৃষ্টি নান্দনিকতা। খাদ্য কর্মকর্তার অফিসে ঝড়ে পড়ছে ছাদ থেকে ইটের চাওলা, নারী বিষয়ক কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, জরিপ কর্মকর্তার অফিস আজও টিনের চালে আবৃত। যেভাবে ছাল চামড়া উঠে গেছে যেন মনে হচ্ছে বুনো আমড়া। প্রশাসনে দায়িত্বশীল বাড়লেও দায়িত্ব বাড়েনি কারো উপর। উন্নয়ন হচ্ছে কি হচ্ছে না তা দেখার জন্য মশা মারতে কামান আনার মতো অবস্থা। বিরাট সম্মানের এমপি, তার চোখে উন্নয়ন ধরা পড়ে না তাই রাখা হয়েছে উপজেলা চেয়ারম্যান। তার চোখ ফাঁকি দিয়ে উন্নয়ন যেন ছিটকে না যায় ১২ ইউনিয়নের ১২ জন চেয়ারম্যান, চেয়ারম্যানদের চোখকে আরো শান্ত করতে ১০৮ মেম্বার ঘুড়ে লিখছেন উন্নয়ন। তবু কালিগঞ্জ কেন ঠেলা গাড়ির মত হেচকে হেচকে হাঁটছে।
সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা, সুষ্ঠু তদারকি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা নিয়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডে এগিয়ে আসার তরে এখনো প্রতীক্ষায় কালীগঞ্জ।
মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের একমাস আগে ২০ নভেম্বর কালিগঞ্জ পেয়েছিল বিজয়ের স্বাদ। সেদিনের বিজয়ের স্বাদ পেলেও আজও সাধ্য হয়ে ওঠেনি উন্নয়নের ধারা কালিগঞ্জের বুকে লাগাতে। ইতিহাসের পাতা থেকে মুঘল আফগানদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সৌন্দর্যের চর্চা অনুভব করেছি। রাস্তার দুপাশে সুন্দর শৌচাগারের কথা, সারি সারি ফুল কাননে ছেয়ে থাকা রাস্তার দুপাশের চক্ষু শীতল করা দৃশ্যের কথা শুনেছি, ল্যাম্পপোস্ট, সুবিন্যস্ত পার্ক আরো কত কি!
দুঃখের ব্যাপার ৫০ বছর কেটে গেলেও কালীগঞ্জে এমন কোন সভ্যতার আবিষ্কার বা চিন্তার উদয় হয়নি কারো মাঝে কি? এত বড় একটি উপজেলা অথচ হাসপাতালের চিত্ত যেন টিউব লাগানো সাইকেল-হেলিকপ্টার এর মত। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কোন চিকিৎসা প্রযুক্তি নেই। ফুসকুড়ি হলেও যেন স্থানান্তর করা হয় ক্লিনিকে অথবা সাতক্ষীরার কোন হাসপাতালে। রাস্তার বর্তমান অবস্থা দেখলে মনে হয় গরুর গাড়ির দিনগুলোই এর থেকে ঢের ভালো ছিল। ৫ সেন্টিমিটার পর পর কই মাছের বাসস্থান সদৃশ কুনি গর্ত । কাশিয়ালির ব্রিজটার উপর আজও ল্যামপোস্ট বসেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুজা মণ্ডল বলেন- সাধ্যমত কয়েকবার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাঠিয়েছি, বাজেট ফিরে এসেছে নানা প্রতিকূলতার মাঝে। অনুজা আরো বলেন সত্য বলতে সাতক্ষীরা অঞ্চল ছিল অবহেলিত। এ অঞ্চলের মানুষ- প্রকৃতি সবকিছু সুন্দর হলেও কেন জানি এ অঞ্চলের মানুষকে নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা উপর মহলে পৌঁছেছে।
হোয়াইট গোল্ড বা সাদা স্বর্ণের শিল্প নগরী কালিগঞ্জ উপজেলা। উপজেলা শুরুতে একটি সুন্দর গেট থাকা উচিত নয় কি? ঘরে ঘরে কত শিল্পপতি। এটি যেন মফস্বল রাজনৈতিক কেন্দ্রের একটি রাজধানী। এখানের প্রত্যেকেই যেন প্রথম শিক্ষাই রাজনীতি শিখে নেয়। তবে কি আমরা উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে পারিনি, নাকি আমাদের চিন্তা ও প্রয়োগে দেশ ভক্তির স্বচ্ছ প্রেমের ধারণা আসেনি?
মেধা মননশীলতা আর পরিশ্রমে এ অঞ্চলের মানুষ সব ধরনের প্রতিকূলতাকে স্তব্ধ করে সাফল্যের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। কি নেই এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে? দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি এনে তাক লাগিয়ে দিয়েছে দেশবাসীকে। আছে মন্ত্রিপরিষদের সচিব থেকে শুরু করে দেশ বিদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ অঞ্চলের মানুষের কার্যকলাপ। তবু কেন দৃশ্যমান নয় এ অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা? তবে কি আমরা ব্যক্তি হিসেবেও সৌন্দর্যের ধারুক নই? নাকি শুধু আমরা সম্পদের পাহাড় গুনতে জানি, শুধরাতে জানিনা? নিজের আত্ম মহিমায় জ্যোতিষ্কের ন্যায় উজ্জ্বল হতে আর কত সময় লাগবে আমাদের?
আমরা প্রত্যেকেই দর্শক হতে পছন্দ করি। উন্নত দেশের উন্নয়ন গল্পে আমরা মাতোয়ারা হই। কিন্তু অর্থ খরচের ভয়ে নিজের স্থানকে পরিবর্তনের ইচ্ছে আমাদের মনে আজও বাসা বাধে নি। আমরা আজ ব্যাংক নির্ভর হয়ে গিয়েছি। সমাজ বিনির্মাণে আমরা উদ্বেলিত। অথচ এ কালীগঞ্জ আমাদের সবার। এ কালিগঞ্জই আমাদের ছেলেবেলায় বেড়ে ওঠার স্বপ্ন বিভোর দিনগুলোর কথা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। কালিগঞ্জের উন্নয়ন হোক আমাদের সকলের হাতে হাত মিলিয়ে। রাজনীতিক প্রেক্ষাপট হোক হিংসা পরিহার করে উন্নয়ন নির্ভর। নির্মিত হোক আধুনিক কালীগঞ্জ।
Leave a Reply