
প্রতিবাদ
শেখ আরিফুজ্জামান রাজু:
কলারোয়া থেকে শ্যামনগর সাত উপজেলা পরিবেষ্টিত সাতক্ষীরা বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা দুই-যুগের বেশি সময় সংস্কারবিহীন রাস্তা সবার চোখে পড়লেও বাজেট বিলম্ব, ধীর কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকারের অভাবে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে সাধারণ জনতা। কালিগঞ্জের আমতলা, পাওখালী ও তালতলার মতো বেশি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকার দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই রোড ও ট্রান্সপোর্ট অথরিটির। দায়িত্বশীলদের আগ্রহ নেই বললেই চলে।
মেরামতের তদারকি না থাকলেও প্রথম আলোর মতো বীভৎসময়ী চুলকানি মার্কা প্রতিবেদনে বেশ চড়ালো উদ্বেগ দেখা যায় জেলার সাধারণ মানুষগুলোর মধ্যে।
জীবন বিপন্নের ঘটনা যেখানে নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ফোসকা পড়ছে দুই হাজার কোটি টাকার বাজেটে। গত কয়েক অর্থবছরে সরকার যে পরিমাণ মোরাল চিত্র আর ইলেকট্রিক বিলবোর্ড তৈরি করেছে তাতে এরকম দুই হাজার কোটি টাকা আরো কয়েক বার খরচ হয়ে গিয়েছে। উন্নয়ন প্রয়োজন ৬৪ জেলায়। তবে প্রয়োজন মাফিক সাতক্ষীরার গুরুত্ব অন্য সকল জেলার তুলনায় সর্বাধিক।
সাতক্ষীরার মূল ভূখণ্ডের এক তৃতীয়াংশ জুড়েই আছে অনিন্দ্য সুন্দর সুন্দরবন, নদীর বুকে জেগে ওঠা বৈচিত্রে ভরা একাধিক চর, ভোমরার মত আন্তর্জাতিক মানের বন্দর, কালিন্দী- কাকশিয়ালী- ইছামতির মত মৎস্য আহরণের মোহনা।
দৃষ্টিনন্দন প্রকৃতি আর ঐতিহাসিক নিদর্শনের সাতক্ষীরায় সবকিছু থাকলেও গড়ে ওঠেনি চলাচলের মত আধুনিক মানের রাস্তাঘাট। যেখানে সাতক্ষীরা হতে পারতো ভ্যাটিসিটিকান, ইতালি কিম্বা গ্রিসের মত শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্র, সেখানে আমরাই আমাদের নিজেদের হেয়ারিপানাই ক্ষতিগ্রস্ত করছি বিশ্ব আশ্চর্যের ঐতিহ্য ভরা দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার সাতক্ষীরাকে।
প্রতিবাদ করলেই ভাইরাল হওয়া যায়, সত্যিকার উন্নয়নের উপলব্ধি করা যায় না। শুধুই কি মন্ত্রী পরিষদ সচিব আব্দুর রশিদই উন্নয়নের ধারক?
মেধা, দক্ষতা আর যোগ্যতায় সাতক্ষীরা আজ কোন অংশে পিছিয়ে নেই। বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেশের সেরা অবস্থানে সাতক্ষীরার নেতৃত্বের জয়জয়কার। রেমিটান্স আনায়োনের সাতক্ষীরার অবদান অন্য জেলা থেকে কোন অংশে কম নয়। সাতক্ষীরা জেলার সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী রত্না খাতুনের মতো দেশপ্রেমী প্রবাসী আছে কত তার সঠিক তথ্য বলা মুশকিল।
কোন মানুষ তার দক্ষতার গুণ দিয়েই মন্ত্রী পরিষদের সচিব পর্যায়ে যেতে পারে, উন্নয়নের অধিকার তারও আছে। তার কর্মপরিকল্পনা এবং উন্নয়নের ধারাকে ছোট করে দেখার অবকাশ পত্রিকার প্রকাশক তো দূরের কথা সরকারেরও নেই।
সরদার ফজলুল করিম তার প্লেটোর সংলাপে মহা দার্শনিক সক্রেটিসের উক্তি বাংলায় অনুবাদ করেছেন
” মানুষের যদি সাধন করার মতো মহৎ কাজ থাকে তবে তার সম্মুখে বড় প্রশ্ন জীবন কিংবা মৃত্যু নয়। তার বিবেচনার একমাত্র বিষয় হওয়া আবশ্যক আপন কাজ সাধন করার জন্য সে কোথাও কোনো অন্যায় কিংবা অপকর্মের আশ্রয় গ্রহণ করলো কিনা “
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উপজেলার শ্যামনগর। আইলা, সিডর, নার্গিস, আমপান, ৮৮র ঝড় কি দেখেনি? লড়াই-সংগ্রাম করেই জীবন চলছে যাদের যুগের পর যুগ। প্রচন্ড লোনা পানির মাঝে একটুকু পানিও কখনো কখনো তাদের জোটে না। অপেক্ষায় থাকতে হয় বৃষ্টির মৌসুমের জন্য। বাঘ-কুমিরের সাথে লড়াই করে চলে যাদের জীবন, অস্তিত্বহীনতার গল্প যাদের প্রতিমুহূর্তেই ছোবল মারে। প্রয়োজন আশ্বাস আর বিশ্বাসের, ভালোভাবে বেঁচে থাকতে যাদের প্রয়োজন লক্ষ্য কোটি টাকার, শুধু বন্টনকৃত ২০০০ কোটি টাকা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।
তবে প্রথম আলোর ফনা তোলা গোখরো সাপের এই রিপোর্ট অবাক করেছে জেলার অতি সাধারণ মানুষ গুলোকেও। ইচ্ছা করা যায় প্রথম আলো তার এই প্রতিবেদনকে ইচ্ছাকৃত ভুল বলে নতুন তথ্যচিত্র তুলে ধরবে।
সাতক্ষীরা উন্নয়ন সম্ভাবনায় দৃশ্যাবলী উপলব্ধি করে শুধু ২ হাজার কোটি টাকা নয় বরং আরো বড় বাজেটের প্রয়োজন।
Leave a Reply