
প্রকৃতি-প্রেমী তরুণদের হাতে সবুজের নতুন স্বপ্ন
শেখ আরিফুজ্জামান রাজু:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের সুবিশাল সবুজ ক্যাম্পাস বৃহস্পতিবার এক অনন্য আয়োজনের সাক্ষী হলো। গাছের ডালে ডালে আশ্রয়ের খোঁজে থাকা পাখিদের জন্য দেড় শতাধিক নিরাপদ অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। শুধু একটি উদ্যোগ নয়—এ যেন প্রকৃতি, প্রাণ ও মানুষের সহাবস্থানের এক সুন্দর ঘোষণা।
এই মানবিক ও পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয় কলেজের জীববিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের ব্যবস্থাপনায় এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘আলোকায়ন ফাউন্ডেশন’-এর সার্বিক সহযোগিতায়।
১১টা বাজতে না বাজতেই ক্যাম্পাসজুড়ে ভর করে ছাত্রছাত্রীদের কর্মমুখর পদচারণা—কেউ গাছে বক্স বাঁধছে, কেউ ল্যাডারে উঠে মাপ নিচ্ছে, আবার কেউ রংতুলি দিয়ে সাজিয়ে তুলছে নতুন পাখিঘরগুলো।
“মানুষ ও প্রকৃতি একে অপরের পরিপূরক”
উদ্বোধনকালে অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান বলেন,
“নিজেকে সুস্থ রাখতে চাইলে প্রকৃতিকে সুস্থ রাখা জরুরি। ঝড়-বন্যা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে গাছ লাগাতে হবে, পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না—সমাজ, দেশ ও প্রকৃতির কল্যাণেও এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের এই প্রাণবন্ত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচিতে সবধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠান ও অতিথিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক সিরাজুল কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ কওছার তুহিন, প্রভাষক মিত্র তাপস কুমার, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল কাদের।
এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক মোসলেম উদ্দীন, গোলাম মহিউদ্দীন, রবিউল ইসলাম, শরীফুজ্জামান শরীফ, নজরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, তাহমিনা পারভীন, রেশমা খাতুন, মৌমিতা মল্লিক, এসকে রাজিব আহমেদ রাজ, শেখ মোজাফফর হোসেন, গোবিন্দ দুলাল বরসহ কলেজের অসংখ্য শিক্ষক–শিক্ষার্থী।
যাদের হৃদয়ের স্পর্শে নির্মিত পাখির নতুন ঠিকানা
এই প্রকৃতিবান্ধব উদ্যোগে সবচেয়ে সক্রিয় ছিল কলেজের একটি উৎসাহী তরুণ দল।
যাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হয়েছে দেড় শতাধিক পাখিঘর— আজমীর হোসাইন, অপূর্ব বর, শেখ আজমল আবির, লাবিব হোসেন, জিত ধর, মাসুদ, রাদিত কবির ওশান, রিফাত, পরমা দাস, রাসনা সুলতানা, মালিহা মেহনাজ মুহী, নম্রতা ঘোষ, মোহিনী মিত্র, নওশীন নুহা, তাসনিম—
এঁরা সবাই মিলে কাজটি শুধু করেননি, বরং নিজেদের হাতেই রং করে সাজিয়ে তুলেছেন এই অবয়াশ্রমগুলোকে।
তাদের প্রত্যেকেই বিশ্বাস করে—
“পাখিরা শুধু প্রকৃতিকে প্রাণবন্ত করে না, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকেও শান্ত ও মননশীল করে তোলে।”
ক্যাম্পাসে যখন রঙিন স্বপ্নের উড়ান
একটি একটি করে গাছে যখন পাখিঘরগুলো ঝুলতে থাকে, তখন ক্যাম্পাসের বাতাসেই যেন বদলে যায় সুর। ছাত্রছাত্রীদের মুখে হাসি, শিক্ষকদের চোখে তৃপ্তি—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে কালিগঞ্জ সরকারি কলেজের ইতিহাসে পরিবেশবান্ধব এক স্মরণীয় দিন।
এই অভয়াশ্রমগুলো শুধু পাখিদের আশ্রয় নয়—এ যেন নতুন প্রজন্মের পরিবেশ-সচেতনতার উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
আজকের এই উদ্যোগ হয়তো আগামী দিনের আরও বড় সবুজ আন্দোলনের সূচনা হয়ে থাকবে।
Leave a Reply