
শেখ আরিফুজ্জামান রাজু:
শহীদ মিনারের পবিত্র ধাপগুলো আজ যেন নিঃশব্দে বলছে—“সংগ্রাম বৃথা যায় না।” টানা দশ দিন ধরে ঢাকার আকাশের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা আজ পেয়েছেন তাদের দাবি আংশিক পূরণের ঘোষণা।
সরকার মেনে নিয়েছে তিন দফা দাবির একটি — বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
এর মধ্যে ৭.৫ শতাংশ কার্যকর হবে আগামী ১ নভেম্বর থেকে, আর বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ কার্যকর হবে আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে।
যদিও সব দাবিই পূরণ হয়নি, তবুও শিক্ষক সমাজ একেবারে আশাহত নয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর এই সিদ্ধান্তে তারা খুঁজে পেয়েছেন আশার প্রথম প্রভাতরেখা।
আজ দুপুরে শিক্ষা উপদেষ্টা সি. আর. আবরার এক আবেগময় কণ্ঠে বলেন,
“৫৫ বছরের ইতিহাসে এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা জানি, শিক্ষক সমাজ শুধু বেতন নয়—সম্মানও খোঁজে। আজকের এই সিদ্ধান্ত তাঁদের মর্যাদার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা দিচ্ছি তাঁদের শ্রমের স্বীকৃতি।”
অন্যদিকে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা দেলোয়ার হোসেন আজিজ সাংবাদিকদের জানান,
“আমরা শিক্ষকদের কষ্টের কথা ভুলিনি। শহীদ মিনারে কাটানো প্রতিটি রাত, প্রতিটি ফোঁটা ঘাম ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। হয়তো সব দাবি আদায় হয়নি, কিন্তু আমরা হেরে যাইনি—এই বিজয় শিক্ষকদের ঐক্যের।”
এদিনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই রাজধানীর বাতাসে এক অনাবিল স্বস্তি। শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়েছেন—বুধবার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরছেন তারা। ক্লান্ত কিন্তু গর্বিত মুখে কেউ কেউ বললেন,
“আবার ফিরবো আমাদের প্রিয় শ্রেণিকক্ষে, যেখানে অপেক্ষায় থাকবে শত শত ছাত্রছাত্রী, যেখানে শুরু হবে জ্ঞানের নবযাত্রা, হৃদয়ের মিলনমেলা।”
শহীদ মিনারের ধুলো, ধৈর্য আর আত্মত্যাগে ভেজা এই দশ দিন যেন প্রমাণ করলো—শিক্ষক মানেই জাতির বিবেক, আর তাঁদের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি অবশেষে সরকারও শুনেছে।
Leave a Reply