
এস এম ওহিদুজ্জামান:
দেশের অন্যতম খ্যাতনামা এই কবি অনুবাদক ও সাহিত্য সম্পাদক হিসেবেও সমধিক পরিচিত ছিলেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনুসারী এ সাহিত্যপুরুষ ১৯১৮ সালের ২৯ অক্টোবর বৃটিশ-ভারতের নওগাঁ মহাকুমার বদলগাছিতে জন্মগ্রহণ করেন।
মানবতাবাদী এবং ইসলামের সাম্য, শান্তি ও কল্যাণের আদর্শে বিশ্বাসী এ কবি ইসলামি আদর্শ, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের রূপকার। ছিলেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৫)’ এবং ‘একুশে পদক (১৯৮২)’ সহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন।
উনিশ শতকের মাঝামাঝিতে কবি তালিম হোসেন তৎকালীন মাহে নও পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক। তার প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে ‘নজরুল একাডেমি’।
তালিম হোসেন তার রচনায় ইসলামি আদর্শ, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ ফুটিয়ে তুলেছেন।
তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ দিশারী ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল- ‘শাহীন (১৯৬২) ও ‘নূহের জাহাজ (১৯৮৩)। এছাড়া তিনি অনুবাদ করেছেন ‘স্বর্গচরণ (১৯৫৯)’ ও ‘দানবীর এন্ড্রুর কার্নেগী (১৯৬২)’ উপন্যাস।
১৯৯৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কবি তালিম হোসেন একাশি বছর বয়সে ঢাকায় ইন্তিকাল করেন। কবির বড় মেয়ে শবনম মুশতারি বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী । শবনম মুশতারী ১৯৯৭ সালে সঙ্গীতে অবদানের জন্য একুশে পদক লাভ করেন।
কবি তালিম হোসেনের জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে তার লেখা ‘বাড়ি’ কবিতাটি তুলে ধরা হলো:
অবশেষে
বাড়ি বানালাম একটা।
আমি এখন এই মহানগরে
একটা বাড়ির মালিক।
বেশ বড়সড়ো—
দক্ষিণে প্রকাণ্ড লন
বড় ড্রয়িংরুম
শোবার ঘর অনেকগুলো—
ছেলেরা থাকবে
মেয়েরা, জামাইরা এলে থাকবে।
মাস্টার বেড রেখেছি একেবারে
ভেতরের দিকে,
আর দক্ষিণ দিকে বড় বড় জানালা,
নিজে থাকব আরাম করে,
সারা বাড়ির ঝামেলা এখানে পৌঁছুবে না।
এ ঘর থেকে বেরুবার দরজা
সিটিং পারলারের দিকে—
সেখান থেকে করিডোর দিয়ে
পাশে অন্যান্য ঘর পেরিয়ে
তারপর ড্রয়িংরুম।
মাস্টার বেডে সকলের প্রবেশ
যাতে স্বাগত না হয় সেজন্যে
প্ল্যানে দরজাটা ছোট মাপের দেখানো ছিল।
কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি,
দরজাটা শেষ পর্যন্ত বড় রাখতে
রাজি হতেই হলো;
কারণ, অশিক্ষিত প্রৌঢ়
রাজমিস্ত্রি সর্দার বললো,
এ্যাত্তো ছোট রাখবেন সাব
এ দিয়ে তো খাটিয়া বেরোবে না।
Leave a Reply