
আরিফুল ইসলাম রিয়াজ, বাগেরহাট:
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় সোমবার (১০ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আজব এক যন্ত্র ল্যাপটপ কম্পিউটারের সংযুক্ত করে চিকিৎসা সেবার নামে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এক ভুয়া চিকিৎসক। রোগ নির্ণয় করছেন ভুয়া চিকিৎসক হাজ্জাজ মোল্লা ।
তার ওপর ভিত্তি করে দিচ্ছেন চিকিৎসা ও ঔষধ। তার লেখা ঔষধ বাজারের কোন ফার্মেসি থেকে কিনলে হবে না, কিনতে হবে তার ই ফার্মেসি থেকে।
সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা ডিপ্লোমা ডাঃ মোঃ হাজ্জাজ মোল্লা। কসমেটিক ডিভাইস দ্বারা মুসলমানি, নাক কান গলা, বাত ব্যথা, চর্মরোগ যৌন, এজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, শিশু ও স্ত্রী রোগে বিশেষ অভিজ্ঞ। অথচ নামের আগে ডাক্তার শব্দটি ব্যবহার করতে হলে এমবিবিএস, বিডিএস, অথবা বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে সনদ নিতে হয়।
নামের আগে ডাক্তার ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করেছেন তার নাম ও বলতে পারেননি। দেখাতে পারেনি কোন প্রাতিষ্ঠানিক সনদ।
অনুসন্ধানে জানা যায় তিনি মুলত ঔষধ কোম্পানীতে এস আর হিসেবে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ নিয়ে গোপালগঞ্জ জেলার টুংগীপাড়া উপজেলায় চরগোশলি রোড সংলগ্ন নীলফা বাজারে ও বোলআট উপজেলার চরফুলিয়া বাজারে দুটি চেম্বার খুলে বসেন। এরপর থেকেই চলছে চিকিৎসা বাণিজ্য।
সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রাইমারি হেল্থ কেয়ার (গাপালগঞ্জ) এল এম এফ জাহানারা নামে এক ব্যক্তির সাথে মুঠো ফোনে কথা বলিয়ে দেন। তিনি বলেন হাজ্জাজ মোল্লা আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরের গ্রাম্য ডাক্তার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তবে প্রেসক্রিপশ প্যাড তৈরি বা নিজের নামে ডাক্তার ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আ.স.মো মাহবুবুল আলম বলেন বাগেরহাট জেলার অনেক জায়গাতেই এমন কিছু ডাক্তার তৈরি হয়েছে বলে আমারা অভিযোগ পাচ্ছি, অতি শীঘ্রই এ সমস্ত ভুয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply